শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ায় ‘নিরাপদ এলাকা’ চায় জার্মানি

    679
    0
    SHARE
    শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ায় ‘নিরাপদ এলাকা’ চায় জার্মানি
    শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ায় ‘নিরাপদ এলাকা’ চায় জার্মানি

    তুরস্ক সফররত জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল শনিবার এ পরিকল্পনার কথা বলেন।

    তুরস্কের গাজিয়ানতেপে এক সংবাদ সম্মেলনে মেরকেল এমন একটি অঞ্চল তৈরি করার আহ্বান জানান যেখানে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর থাকবে এবং একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকবে’।

    সিরিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রাণ বাঁচাতে দেশটির লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে।

    বর্তমানে শুধু তুরস্ক ও বেলজিয়ামেই ২৭ লাখ সিরিয় শরণার্থী আবস্থান করছে। শরণার্থীদের সিরিয়াতেই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলে দেশ দুইটির ওপর চাপ অনেকটা কমবে।

    যদিও জাতিসংঘ জার্মানির এ পরিকল্পনায় একমত পোষণ করেনি। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ দেশটিতে শরণার্থীদের যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না হয় তবে এই পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ। ত্রাণ কর্মীরাও এ পরিকল্পনার বিপক্ষে মত দিয়েছে।

    সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিক্ষুব্ধ বিভিন্ন দেশ, এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে গত বছর লাখ লাখ শরণার্থী ইউরোপে প্রবেশ করেছে।

    শরণার্থীদের এ ঢল সামলাতে ইউরোপের দেশগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সঙ্কট সমাধানে তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইইউনিয়ন (ইইউ)।

    চুক্তি অনুযায়ী, তুরস্কে হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করা শরণার্থীদের সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। ফেরত পাঠানো প্রত্যেক সিরিয় শরণার্থীর পরিবর্তে তুরস্কে অবস্থান করা অন্য একজন সিরিয় শরণার্থী যিনি বৈধভাবে আবেদন করেছেন তাকে ইউরোপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

    এছাড়া, তুরস্ককে বেশকিছু আর্থিক ও রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কথাও চু্ক্তিতে বলা হয়েছে।

    গতমাস থেকে চুক্তিটি কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের হারও কিছুটা কমে এসেছে।

    যদিও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো তুরস্ক-ইইউ চুক্তিকে ‘মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করে তার বিরোধিতা করেছে।

    তুরস্ক শরণার্থীদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করে মেরকেল বলেন, “শরণার্থীদের সঙ্গে কি আচরণ করা উচিত সে বিষয়ে আজ তুরস্ক সারা বিশ্বের সামনে সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণে পরিণত হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছি এটা ভেবে আমার গর্ব হয়। একত্রে কাজ করার ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই।”

    তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতগলু বলেন, তুরস্ক শরণার্থীদের প্রতি সব ধরনের দায়িত্ব পালন করছে। “এমনকি আমরা শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করছি।”

    যদিও তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া হাজারো সিরিয় শিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।

    Comments

    comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here