SHARE
লিটন
লিটন

ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা ভালো খেলেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। ব্যাটিং স্টাইল ও উইকেটকিপিং দিয়ে শুরুতেই নজর কাড়েন। গত বছর ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে দারুণ এক ফিফটি করে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের আস্থাও অর্জন করেন। ওই ইনিংসের পর আরও দুটি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও তিনটি টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে ভালো কিছু করতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন, জাতীয় দলে শুরুতে সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছেন লিটন। আর এ কারণেই গত বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। জাতীয় দলে জায়গা হারানোর পর লিটন বুঝতে পেরেছেন কোনো একটা কিছুর ঘাটতি রয়েছে তার। সেই উপলব্ধি থেকে নিজের দুর্বলতা নিয়ে এখন কাজ করছেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকা কতটা কষ্টের? কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিটন কুমার দাস বলেন, ‘ড্রেসিংরুম শেয়ার করা মিস করি। মাঝে মাঝে মনে হয়, দল খেলছে আমিও তো এখন দলে থাকতে পারতাম। কোনো একটা কিছুর কমতি আছে বলেই আমি বাইরে। নিজের এ দুর্বলতা নিয়েই কাজ করছি।’ বাংলাদেশ টানা টি ২০ ম্যাচ খেলার পর আবার টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরছে। এই দুই ফরম্যাট নিয়ে কিছু ভাবছেন কিনা জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘সামনে এখন যা আছে সেটা নিয়েই চিন্তা করছি। একটা একটা করে ভাবতে চাই। সামনে যেহেতু প্রিমিয়ার লীগম এখন মনোযোগ সেদিকেই রাখছি।’ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে গত আসরে আবাহনীর হয়ে খেলেছেন লিটন। এবারও তাকে দলে রেখে দিয়েছে আবাহনী। বড় দলে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেও খুশি। তিনি বলেন, ‘আবাহনী আমাকে দলে রেখে দিয়েছে, এদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। আমি নিজেও চেয়েছিলাম আবাহনীতে থাকতে। আগের আসরে ভালো পারফরম্যান্স করেছি, দলও খারাপ করেনি।’ ঢাকা লীগে লক্ষ্য কী জানতে চাইলে এ ডান-হাতি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘লীগ পদ্ধতিতে খেলা হওয়ায় অনেক ম্যাচ পাওয়া যায়। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং নিয়ে আলাদা লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর আমি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলাম। এবারও চাইব উপরের দিকে থাকতে।’ ব্যাটিং ও কিপিং অনুশীলন নিয়ে লিটন বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি ব্যাটিং ও কিপিংয়ে সমান মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। ব্যাটিং এক ঘণ্টা করলে তো কিপিং আধাঘণ্টা, আবার কোনোদিন কিপিং এক ঘণ্টা তো ব্যাটিং আধাঘণ্টা অনুশীলন করি।’ কোচ, অধিনায়ক সব সময়ই লিটনকে সুযোগ দেয়ার পক্ষে রয়েছেন। নির্বাচকদেরও তার প্রতি নজর রয়েছে। এখন টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা অর্জনের জন্য কতটা আত্মবিশ্বাসী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কিছুর মূলে রয়েছে পারফরম্যান্স, এটা করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আর আমি এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি।’ ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলের মধ্যে পার্থক্য কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে আমি ভালোভাবে কোনো একটা জায়গায় সেট হতে পারিনি। প্রথমবার পারিনি, কিন্তু পরে যে পারব না সেটা মোটেও ভাবছি না। আমি সেট হওয়ার জন্যই চেষ্টা করছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here