SHARE

সর্বদা হাসি মুখ। সবার মুশকিল আসান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং বাজার ও স্টেশন এলাকায় সব মানুষের কাছেই অতি প্রিয় রাজু আঙ্কল। রাজু আঙ্কলের আরও একটা বড় গুণ, তিনি ভাল গান করেন। মহম্মদ রফি তাঁর প্রিয় গায়ক। রাস্তাঘাটে মানুষের আবদার মেটাতে মাঝে মধ্যেই রাজু আঙ্কলের গলায় শোনা যায় ইয়ে দুনিয়া, ইয়ে মেহফিল, মেরে কাম কে নেহি। কার্যত এই গানটির সঙ্গেই নিজের জীবনের মিল খুঁজে ফেরেন রাজু। কারণ, ৪৫ বছর আগেই পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন রাজু। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুকের হাত ধরে নিজের পরিবারের লোকেদের ফিরে পেতে চলেছেন রাজু।

ভাল নাম মসি শেখ। বাড়ি বিহারের বেগুসরাই এলাকায়। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন তিনি। মাত্র পনেরো বছর বয়সে কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এ-ট্রেন, ও-ট্রেন চড়ে অবশেষে এসে পৌঁছন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। সেই থেকেই ক্যানিং বসবাস শুরু করেন রাজু। মূলত ক্যানিং স্টেশনই ছিল তাঁর ঘর। এখানে থাকতে থাকতে স্টেশনের সমস্ত দোকানদার হয়ে ওঠে রাজুর আপনজন। কারও জল এনে দেওয়া, কারও দোকানের জিনিসপত্র এনে দেওয়া। ধীরে ধীরে কিশোর থেকে যুবক হয়ে ওঠেন রাজু। ক্যানিংয়ের এক ব্যবসায়ীর ছত্রছায়ায় থাকতে শুরু করেন। তাঁর বিস্কুট-পাউরুটির কারখানাতেই ব্যবসার কাজে সাহায্য করতেন।

এরপর বিয়ে করে, ক্যানিংয়ের মিঠাখালি গ্রামে বসবাস শুরু করেন রাজু। কিন্তু বাবা, মা, ভাই বোন সকলের কথাই আবছা আবছা ভেসে উঠত তাঁর মনে। অবশেষে একদিন স্টেশনের এক ব্যবসায়ী সিকন্দার সাহানি, রাজুর সঙ্গে ঠাট্টা করতে করতে তাঁর ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দেন। সঙ্গে রাজুর বর্ণনাও দেন। আর সেই ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরেই পরিবারের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সকলের প্রিয় রাজু আঙ্কলের। বিহারের বেগুসরাই-এর বাড়িতে বাবা-মা এখন আর নেই। তবে ভাই বোন সকলেই আছেন।

রাজুকে খুঁজে পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকেরাও খুশি। আগামী দুই একদিনের মধ্যেই ক্যানিং এসে পৌঁছবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ফোনে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর পরিবারের লোকেদের খুঁজে পেয়ে বেজায় খুশি রাজু। তিনি বলেন, আবার কখনও পরিবারের কাউকে খুঁজে পাবো ভাবতে পারিনি। সিকন্দার ভাই উদ্যোগ না নিলে এটা সম্ভব হতো না। আর যাঁর জন্য রাজুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজনের যোগাযোগ হল, সেই সিকন্দার বলেন, রাজু আঙ্কেল আমাদের সকলের খুব প্রিয়। মাঝে মধ্যেই আমাদের কাছে পরিবারের সকলের গল্প করতেন। সেদিন পরিবারের লোকদের খুঁজে দেওয়ার নাম করে ঠাট্টার ছলেই ওঁর ছবি ও জীবনের গল্প ফেসবুকে আপলোড করি। আর সেই সূত্রেই রাজু আঙ্কেলের পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here