SHARE
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী সৌদি আরব
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী সৌদি আরব

বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব সরকারি নীতি, সস্তা শ্রম, তারুণ্য নির্ভর সমাজ ও কোয়ালিটি প্রডাক্ট সৌদি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি চেম্বার অব কাউন্সিলের চেয়ারম্যন ড. আব্দুল রহমান আল জামিল।

রোববার (২২ মে) সৌদি আরবের রিয়াদে ‘১৫তম ট্রেড ফেয়ার অফ দি ওআইসি মেম্বার স্টেটস’- এ যোগ দিতে বর্তমানে রিয়াদ সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ড. আব্দুল রহমান আল জামিলের নেতৃত্বে সৌদি চেম্বার অব কাউন্সিলের ব্যবসায়ী  প্রতিনিধি দল অংশ গ্রহণ করেন। সৌদি চেম্বার অব কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেলও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানান, তাদের দেশে বাংলাদেশের তৈরি এ  সকল পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ সকল পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে আগ্রহী সৌদী আরব। একইসঙ্গে সৌদি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ এবং বাণিজ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তারা জানান, বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়লে উভয় দেশ লাভবান হবে।

সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে শতভাগ বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে এবং শতভাগ মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাহারের সুযোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের তৈরি হোম টেক্সটাইল, টেরি-টাওয়েল, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, হিমায়িত মাছ, হালাল মাংস, ভেজিটেবল, শুকনা খাবারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ সৌদি সরকারের কাছে এ সকল পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে।  বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ২০০৬ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তি কার্যকর করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করলে উভয় দেশ উপকৃত হবে। সৌদি ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশে বিনিযোগ করলে সৌদি ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন এবং উভয় দেশ উপকৃত হবে।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সৌদি আরবে ১৮৬.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে এবং একই সময়ে ৮২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভালো। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পণ্য সৌদি আরবে রফতানিরও অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে সৌদি আরব সফর করবেন। এ সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও মত বিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) জহির উদ্দিন আহমেদ ।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here