SHARE

মাধ্যমিক পরীক্ষা চলার সময়ই মেয়েটির (১৬) বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু তার ইচ্ছা নেই মোটেও। এ পরিস্থিতিতে মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে প্রশাসন ও মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে মেয়েটির বাল্যবিবাহ ঠেকানো গেছে। ফলে, মেয়েটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে। এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী, তার জন্ম ২০০০ সালের ১ এপ্রিল। সেই হিসাবে বয়স প্রায় ১৬ বছর। মেয়েটির অভিভাবকেরা পার্শ্ববর্তী হাজীপুর ইউনিয়নের দুবাইপ্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি বিয়ের তারিখ ধার্য করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে মানবাধিকার কমিশনের দক্ষিণ কুলাউড়া আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন দত্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন লাল দেব মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধে তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপজেলার মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে অভিভাবকদের কথা বলিয়ে দেন। পরে বিয়ে বন্ধে অভিভাবকেরা সম্মত হন।

 

তপন দত্ত বলেন, ‘এলাকার কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা মেয়ের বাড়িতে যাই। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় ওয়ার্ডের সদস্যের উপস্থিতিতে তাকে (মেয়ে) ডেকে এনে কথা বলি। সে এ বিয়েতে রাজি ছিল না। পড়াশোনা আরও চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানায় সে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের কুফল ও আইনি বাধা সম্পর্কে বোঝাই। প্রথমে তাঁরা নানা অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানাই। তিনি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিভাবকেরা বিয়ে বন্ধে রাজি হন।’

 

উপজেলা মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াছমিন বলেন, বাল্যবিবাহের আয়োজনটি বন্ধ না করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এ কথা বলার পর মেয়ের বাবা সম্মত হন।

 

মেয়েটির বাবা আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, প্রবাসী পাত্র পেয়ে মেয়ের বিয়েতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। তবে এখন বুঝতে পারছেন, ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়ের বিয়ে দিলে তা হতো বিরাট ভুল। মেয়েকে দুশ্চিন্তা না করে পরীক্ষা দিতে বলেছেন বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here