SHARE
বাণিজ্য দূত রুশনারা
বাণিজ্য দূত রুশনারা

ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাদের সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে বলা হয়, পহেলা বৈশাখে রুশনারাকে বাংলাদেশ বিষয়ে বাণিজ্য দূত হিসেবে ক্রস-পার্টি ট্রেড এনভয় নেটওয়ার্কে যোগদানের জন্য নির্বাচিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।

সিলেটের মেয়ে রুশনারা আলী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। লন্ডনের ‘বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো’ আসন থেকে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সংসদীয় বাছাই কমিটির সদস্য রুশনারা এর আগে লেবার পার্টির হয়ে শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক শ্যাডো মিনিস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি।

নিজেকে বাণিজ্য দূত নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় রুশনারা বলেন, “বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে বহুদলীয় এই ফোরামে নিয়োগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত।

“এই দেশ আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বের এই জন্য যে আমার নির্বাচনি এলাকার এক তৃতীয়াংশ মানুষের বাংলাদেশি ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে আমি যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছি।”

যুক্তরাজ্যের জন্য প্রধান বাজার হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য ২০১২ সালে ক্রস-পার্টি ট্রেড এনভয় কর্মসূচি চালু করা হয়।

এর আওতায় নির্দিষ্ট খাত ও দেশের বিষয়ে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও জ্ঞান বিবেচনা করে পার্লামেন্টের দুই কক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে বাণিজ্য দূতের অবৈতনিক পদে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন।

বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘরানার ২৫ জন জনপ্রতিনিধি ৫০টিরও বেশি বাজারের জন্য বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করছেন।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী এবং এর সঙ্গে দেশটির ‘গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক’ রয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধার বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে এই সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন রুশনারা। পাশাপাশি ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে কাজ করবেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সহায়তায় শ্রমমান ও পরিবেশ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের জ্ঞান বিনিময় করবেন।

বিবৃতিতে রুশনারাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমি দেখতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে বাংলাদেশকে সহায়তায় ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় দেশটির প্রচেষ্টায় সমর্থনে একযোগে ভূমিকা পালন করবে ব্রিটেন।”

ব্রিটিশ হাই কমিশন বলেছে, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ‘জোরালো বাণিজ্য স্বার্থ’ রয়েছে এবং দুদেশের মধ্যে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২৩ লাখ পাউন্ড।

ঢাকা, চট্টগাম ও সিলেটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রিটেইল, ব্যাংকিং, জ্বালানি, অবকাঠামো, পরামর্শ দান ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে শতাধিক ব্রিটিশ কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির গন্তব্য বিবেচনায় তৃতীয় শীর্ষ দেশ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাজ্য।

রুশনারাকে বাণিজ্য দূত নিয়োগে আনন্দ প্রকাশ করে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্ল্যাক বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি চমৎকারভাবে বাড়ছে এবং ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য এখানে দারুণ সুযোগ রয়েছে। আমাদের কোম্পানিগুলোর বিশ্ব মানের রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে।

“যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে মিসেস আলীর সঙ্গে কাজ করার জন্য সহকর্মীদের নিয়ে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here