SHARE
বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃত এবং চাহিদাও ব্যাপক
বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃত এবং চাহিদাও ব্যাপক
শ্রীলঙ্কার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে উত্পাদিত ওষুধের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃত এবং শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ওষুধের প্রচুর চাহিদা রয়েছে,। এজন্য বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ীদের শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে শ্রীলঙ্কার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদের সাথে রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসেকেরা এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাজিথ মুয়ানাগে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হতে সাড়ে ৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, এর বিপরীতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় মাত্র ৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাফটা’র আওতায় বিশেষায়িত পণ্য তালিকা পুনঃমূল্যায়নের প্রস্তাব করেন। ডিসিসিআই সভাপতি শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফলমূল, পাট ও পাল্প পেপার, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সেবা, পর্যটন এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি দুদেশের পণ্য পরিবহনে ব্যয় হ্রাসের জন্য চট্টগ্রাম ও মংলার বন্দরের সাথে কলম্বো এবং ট্রিনকোমালি সমুদ্রবন্দরের    মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, শ্রীলঙ্কার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদ্দিন  বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এ সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ফার্মাসিউটিক্যাল, জাহাজ-নির্মাণ, পর্যটন, মত্স্য আহরণ এবং অন্যান্য উত্পাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং হামবানটোটা সমুদ্রবন্দর ভৌগোলিকভাবেই অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং বন্দরসমূহে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে পণ্য পরিবহনে শ্রীলঙ্কার বন্দরসমূহ ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, শ্রীলঙ্কার সাথে চীন ও ভারতসহ বেশকিছু দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) রয়েছে এবং বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বাণিজ্য কার্যক্রম সম্প্রসারণে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি দুই দেশের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি এ কার্যক্রমকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ডিসিসিআই এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা গত বছর পাকিস্তান ও ভারতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০টি পণ্য রপ্তানি করেছে এবং শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি ফেয়ার’ আয়োজনের প্রস্তাব করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ইয়াসোজা গুনাসেকেরা বলেন, বাংলাদেশে অনেক শ্রীলঙ্কান কোম্পানি তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছে। তিনি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের উপর জোরারোপ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here