SHARE
বছরে দেড় লাখ টন মধু রফতানি সম্ভব
বছরে দেড় লাখ টন মধু রফতানি সম্ভব

মধুমাস জ্যৈষ্ঠে বিভিন্ন ফুলের মধু নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে বিসিক ভবন চত্বরে চলছে জমজমাট মধুমেলা। দেশীয় মৌচাষীদের উৎপাদিত মধুর পরিচিতি, বাজার সৃষ্টি এবং ব্যবহারে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এ মেলার আয়োজন। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের মধু একটি সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। মধুকে রফতানিমুখী শিল্পে উন্নীত করা সম্ভব। বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ থেকে ১ দশমিক ৫০ লাখ টন মধু বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের এ মেলা শুরু হয়েছে রোববার চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌচাষীদের উৎপাদিত মধু বিক্রি ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে মেলায় ৩০টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলছে এ মেলা। বুধবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি স্টলে বিভিন্ন আকারের বোতলে সাজানো রয়েছে মধু। মেলায় অংশ নেয়া চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে এখন সবচেয়ে বেশি মধু আহরিত হয় সরিষার ফুল থেকে। এর পাশাপাশি লিচু, কালিজিরা, মৌরি, ধনে, তিসিসহ বিভিন্ন ফুলের মধুও সংগ্রহ করা হয়। মেলায় প্রতি কেজি সরিষা ফুলের মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কালিজিরা ফুলের মধু ৭০০-৮০০ টাকা, ধনিয়া ফুলের মধু ৭০০-৮০০ টাকা, লিচু ফুলের মধু ৪৫০-৫০০ টাকা, মৌরি ও তিসির মধু ৫০০ টাকা, সুন্দরবনের মধু ৫৫০ টাকা, সব ফুলের মধু ৫৫০ টাকা, বরই ফুলের মধু ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও বিভিন্ন স্টলে বিক্রি হচ্ছে মধু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকম ওষুধ।

মেলায় বিক্রি কেমন হচ্ছে- জানতে চাইলে ট্রুপিকা হানির ম্যানেজার (মার্কেটিং ও বিক্রয়) আবদুর রউফ বলেন, মেলার শুরু থেকেই প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা আসছেন এবং মধুও কিনছেন। সব স্টলেই কম-বেশি মধু বিক্রি হচ্ছে। আমাদের স্টল থেকে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০ জন কাস্টমার বিভিন্ন পরিমাণ মধু কিনছেন। মেলায় কী ধরনের সাড়া পাচ্ছেন- জানতে চাইলে সুন্দরবন বি অ্যান্ড হানি ফার্মার নাজিম হোসেন বলেন, মেলায় প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসেন এবং মধুও বিক্রি হচ্ছে অনেক। অনেকে মধু কিনেন, আবার অনেকে মধুর উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।

বিসিক থেকে জানা যায়, ১৯৭৭ সাল থেকে বিসিক মৌচাষের কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশে বর্তমানে দুই প্রজাতির- অ্যাপিস মেলিফেরা এবং অ্যাপিস সেরেনা বা দেশজ প্রজাতির মৌমাছি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌবাক্সে চাষ করা হয়। ইতিমধ্যে বিসিক দেশব্যাপী প্রায় ১৮ হাজার নারী ও পুরুষকে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here