SHARE
পথযাত্রীর পাশে ইসলামী ব্যাংক
পথযাত্রীর পাশে ইসলামী ব্যাংক

আসরের পর থেকেই টিপটিপ বৃষ্টি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যার যার কাজ সেরে ঘরে ফিরছে নগরবাসী। ইফতারের আগে বাসায় ফিরতে বাসে উঠে বসেছেন অনেক রোজাদার। অনেকে চেপেছেন রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। বৃষ্টি-কাদায় যানজট লেগে আছে আঠার মতো। ওদিকে ঘনিয়ে আসছে ইফতারের সময়। মাগরিবের আজান পড়ে গেলে কিভাবে ইফতার পর্ব সারবেন?

মালিবাগ রেলগেটগামী একটি বাসে বসে অন্য অনেকের মতো সেটাই ভাবছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএপড়ুয়া বাবুল হাসান। এমন সময় চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে একটি ছোট ব্যাগ ছুড়ে দিয়ে চলে গেল একটি পিকআপ ভ্যান। ব্যাগের ভেতর একটি ৫০০ মিলি পানির বোতল, দুটি খেজুর, একটি ঝালমুড়ির প্যাকেট আর একটি বাটার বান। জানালা দিয়ে তাকিয়ে বাবুল দেখতে পেলেন, যে পিক আপ ভ্যান থেকে ইফতারির ব্যাগ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, কাঠ আর পিভিসি ব্যানার দিয়ে কাভার্ড ভ্যানের মতো সাজানো সেই পিক আপ ভ্যানের গায়ে লেখা ‘রোজাদারের পাশে ইসলামী ব্যাংক’।

গতকাল বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের ইফতারি বিতরণের এই চিত্র দেখা যায়। কেবল বাবুল নন, গুলিস্তানগামী বাসের যাত্রী আবদুস শহিদও পেয়েছেন ইফতারির একটি প্যাকেট। রিকশাচালক আলাউদ্দিনও বাদ যাননি। এমনই আরো অনেক অজানা পথযাত্রীর মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তাদের। এবারের রোজায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার এক লাখ পথযাত্রীর মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে ব্যাংকটি। ঢাকার সাতটি স্পটে প্রতিদিন ৫০০ করে মোট তিন হাজার ৫০০

প্যাকেট ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের দুটি স্পটে এক হাজার প্যাকেট এবং খুলনায় একটি স্পটে ৫০০ প্যাকেট ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

রাজধানীর শাহবাগ-এলিফ্যান্ট রোড-নিউ মার্কেট, যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড, কারওয়ান বাজার-ফার্মগেট-বিজয় সরণি, শেওড়াপাড়া-মিরপুর-১১, মালিবাগ-রামপুরা, নয়াবাজার-ইংলিশ রোড ও মহাখালী-বনানী; চট্টগ্রামের মুরাদপুর-বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড-নিউ মার্কেট এবং খুলনা শহরের ডাকবাংলো-ফেরিঘাট এলাকায় প্রতিদিন মোট পাঁচ হাজার পথযাত্রী রোজাদারের মাঝে ইফতারি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যয়ের অংশ থেকে ২০১৪ সাল থেকে পথযাত্রীদের মধ্যে ইফতারি বিতরণ করে আসছে ইসলামী ব্যাংক। তবে এবার আগের চেয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার আমরা এক লাখ পথযাত্রীকে ইফতার করাব। এ ক্ষেত্রে যানজটের কারণে ঘরে ফিরতে না পারা পথযাত্রী রোজাদারই আমাদের লক্ষ্য। এই কাজে আমরা এবার ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় করছি। ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের আরো অনেক সেবামূলক কাজ করে থাকে। ’

পবিত্র রমজানের প্রথম দিন গত রবিবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুল হামিদ মিঞা রাজধানীর দিশকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইফতারসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

গতকাল মৌচাক-মগবাজার স্পটে ইফতারি বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও মো. মমতাজ। তাঁরা জানান, যেসব বাসে দূরের যাত্রী রয়েছেন সেসব বাসেই বেশি ইফতারি দেওয়া হচ্ছে। কেননা কাছের যাত্রীরা একটু পরই বাস থেকে নেমে বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারবেন। কিন্তু দূরের যাত্রীরা তা পারবেন না। তাঁদের বাসের মধ্যেই ইফতার পর্ব সারতে হবে। এ কারণে চলন্ত পিক আপ ভ্যান থেকে চলন্ত বাসেও ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here