SHARE
নকিয়া ফিরছে, মাইক্রোসফট বেচছে!
নকিয়া ফিরছে, মাইক্রোসফট বেচছে!

নকিয়া ব্র্যান্ডের ফিরে আসার খবরটি নিশ্চয়ই শুনেছেন। আগামী বছরেই বাজারে ফিরে আসছে নকিয়া। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে বাজারে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার-চালিত স্মার্টফোন ও ট্যাব পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নকিয়া ব্র্যান্ডের ফিচার ফোনও বাজারে আসবে। নকিয়ার ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে ফোন-ট্যাব তৈরি করবে ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান এইচএমডি।
নকিয়া ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন তৈরির জন্য ফিনল্যান্ডের এইচএমডি গ্লোবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করেছে নকিয়া। ওই প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ব্র্যান্ড লাইসেন্স ও মেধাস্বত্ব ফি হিসেবে অর্থ নেবে নকিয়া। বুধবার নকিয়া ব্র্যান্ডের ফোন ও ট্যাবলেট তৈরির জন্য ১০ বছরের চুক্তি সই করেছে এইচএমডি।
একসময় বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা নকিয়া স্মার্টফোনের উত্থানের যুগে ভুল পদক্ষেপের কারণে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের কাছে মার খেয়েছে। ২০১৪ সালে মাইক্রোসফটের কাছে মোবাইল ফোন বিভাগটি বিক্রি করে দেয় নকিয়া। তবে মোবাইল ফোনের পেটেন্ট নিজের কাছে রেখে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এখন সরাসরি ফোন তৈরিতে না নামলেও ব্র্যান্ড লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে আবার নকিয়া নামটি ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে তারা। তবে মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তির কারণে আগামী বছরের আগে নকিয়া ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাজারে আসবে না।
এদিকে নকিয়াকে কিনে নেওয়া মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের ফিচার ফোনের ব্যবসাটি তারা ফক্সকনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এফআইএইচ ও এইচএমডির কাছে বেচে দেবে। চুক্তি অনুযায়ী, এইচএমডি ফিচার ফোনেও নকিয়ার ব্র্যান্ড নামটি ব্যবহার করতে পারবে।

কোথায় চলবে নকিয়ার ফোন?
দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে এখনো নকিয়া ব্র্যান্ডটির আকর্ষণ রয়েছে। ভারত ও চীনের বাজারকে লক্ষ্য করে নকিয়া ব্র্যান্ডের ফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে এইচএমডি ও ফক্সকন।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের গবেষক বেন উড বলেন, হ্যান্ডসেট ব্যবসা থেকে কিছু আয় করার জন্য ভালো একটি চুক্তি করেছে বর্তমানে টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত বর্তমান নকিয়া। হার্ডওয়্যারের দিক থেকে বিবেচনা করলে বর্তমানে নকিয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে নকিয়া ব্র্যান্ডটি এখনো শক্তিশালী। তবে বর্তমান স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতার বাজারে নকিয়া কী টিকবে? এ বিষয়টি পরিষ্কার নয়। নকিয়া তার জৌলুশ হারিয়ে ফেলেছে।
অবশ্য, নকিয়ার ফোন আনতে ও বাজারে চালাতে বিশাল খরচ করার পরিকল্পনা করেছে এইচএমডি। ফক্সকনের সঙ্গে চুক্তি করে ব্র্যান্ড ও নকশার ক্ষেত্রে আগামী তিন বছরে ৫০ কোটি ইউরো বিপণনে খরচ করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে নকিয়া ব্র্যান্ডটির এখনো কিছু আকর্ষণ রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা তীব্র। নকিয়া নিজে এখন কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। ঝুঁকি এখন চীনের ফক্সকনের। তারাই ফোন তৈরি, বিক্রি ও সরবরাহের কাজ করবে।

মাইক্রোসফট কী করবে?

মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ফোনের দুর্দশা যেন কাটছেই না। তবে ফিচার ফোন তৈরির বিভাগটি বিক্রি করে দিলেও এখনই স্মার্টফোনের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে না মাইক্রোসফট। ২০১৪ সাল থেকে স্মার্টফোনের দুনিয়ায় মাইক্রোসফট সংগ্রাম করলেও লুমিয়া ফোন তৈরি করে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের কর্মকর্তারা। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্মার্টফোনের বাজারে উইন্ডোজ ফোনের দখল ক্রমে কমছে। কয়েক বছর আগে ডেস্কটপের পাশাপাশি উইন্ডোজ ফোনের বাজারে দখল করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল মাইক্রোসফট। ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে নকিয়াকে কিনেছিল মাইক্রোসফট। কিন্তু নকিয়াকে কেনার পরও মাইক্রোসফটের স্মার্টফোনের বাজার দখল করার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং দিন দিন সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, মাইক্রোসফটের ফোন ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার সময় চলে এসেছে। মাইক্রোসফটের ফোন ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিশ্লেষকেরা। গত বছরের শেষ তিন মাসে বা বছরের শেষ প্রান্তিকে অ্যাপল যেখানে সাড়ে সাত কোটি ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছে, সেখানে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মাত্র ২৩ লাখ লুমিয়া ফোন বিক্রি করেছে মাইক্রোসফট, যা তার আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। গত বছর উইন্ডোজ ফোনের বিক্রি তার আগের বছরে তুলনায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। ফোন বিভাগ থেকে মাইক্রোসফটের মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে যত স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে, তার মধ্যে প্রতি ১০০টির মধ্যে মাত্র দুটি ফোনে উইন্ডোজ সফটওয়্যার রয়েছে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্মার্টফোনের বাজারে উইন্ডোজ ফোনের মার্কেটশেয়ার ১ শতাংশের নিচে চলে গেছে। উইন্ডোজ ফোনের নিচে আছে কেবল ব্ল্যাকবেরি, টাইজেনের মতো অপারেটিং সিস্টেম। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস শীর্ষে রয়েছে।

আসছে সারফেস
নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আগামী বছর ‘সারফেস’ ব্র্যান্ড নাম দিয়ে নতুন স্মার্টফোন বাজারে ছাড়তে পারে মাইক্রোসফট। সারফেস হচ্ছে মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় ট্যাবলেট কম্পিউটারের ব্র্যান্ড। ২০১৭ সালে এই হালনাগাদ সফটওয়্যার দিয়ে নতুন এই ফোন আনবে মাইক্রোসফট।
উইন্ডোজ বিভাগের প্রধান টেরি মেয়ারসন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিল্ড সম্মেলনে বলেন, ‘এ বছর উইন্ডোজ ফোন আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়; বরং মাইক্রোসফট বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও কাজের উপযোগী ফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।’ তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, উইন্ডোজ সেন্ট্রাল

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here