SHARE
ঢাকায় ডাক বিভাগের ই-কমার্স সেবা চালু
ঢাকায় ডাক বিভাগের ই-কমার্স সেবা চালু

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসে (জিপিও) নতুন এই সেবার উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

বেসরকারি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ই-ক্যাবের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডাক বিভাগের পরিচালক তরুণ কান্তি শিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ই-ক্যাবের সদস্যরা অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করেছেন। ঢাকায় তাদের পণ্য পরিবহনের কাজটি করবে ডাক বিভাগ।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার ১১টি সাব পোস্ট অফিস থেকে পণ্য গ্রহণ ও ২১টি সাব পোস্ট অফিস থেকে পণ্য বিতরণ করা হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানান হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, সারাদেশে ৯৮৮৬টি পোস্ট অফিস রয়েছে। ক্রমান্বয়ে এই পোস্ট ই-কমার্স সার্ভিস চালুর মাধ্যমে এই অফিসগুলোকে আরও কার্যকর করা হবে।

“সারা দেশে ডাক বিভাগের যে স্থাপনাগুলো আছে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করায় ডাক বিভাগের বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রতিবছরই বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ২০৬ কোটি রাজস্ব আয় হয়েছিল। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ৩০১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

“এভারে পরের বছরগুলোতেও ডাক বিভাগে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আছে। আমরা আরও নতুন নতুন প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা যায়।”

তারানা হালিম বলেন, “ই-কমার্স পোস্ট অফিসের চেহারা পাল্টে দেবে। এটা হবে ডাক বিভাগের আয়ের প্রধান উৎস।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, পণ্য পরিবহনের জন্য আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে ডাক বিভাগের ১৮টি গাড়ি রাস্তায় নামবে, যার ২০ শতাংশ চালক থাকবেন নারী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন সার্কেলের পোস্ট মাস্টার জেনারেল সৈয়দ আহমদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১১টি পয়েন্টে রিসিভ এবং ২১টি পয়েন্টে বিতরণ করা হবে।

কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস ছাড়াও গুলশান, বনানী, নিউ মার্কেট, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ আরও কয়েকটি সাব পোস্ট অফিসে বসছে ই-কমার্সের শাখা।

প্রতিদিনই পণ্যগুলো তেজগাঁওয়ের নতুন হাবে জমা করা হবে। সেখান থেকে পরদিন সকাল ৮টার মধ্যে গ্রাহকদের কাছে তা বিতরণের জন্য পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান আহমদ আলী।

ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শুধাংসু শেখর ভদ্র বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে মানুষ এই ই-কমার্সের সেবাটি নিচ্ছেন, মাঝে মধ্যে প্রতারিতও হচ্ছেন। ডাক বিভাগ এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।

কেন্দ্রীয় সার্কেলের পোস্ট মাস্টার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহবুব রশিদ বলেন, যুগের চাহিদার আলোকে ই-কমার্স এখন গুরুত্বপূর্ণ সেবা। এটা আমাদের পাইলট প্রকল্প। অচিরেই সারা বাংলাদেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ই-ক্যাবের উপদেষ্টা শমী কায়সার বলেন, এই ডেলিভারি চ্যানেল ব্যবহার করে তারা ভবিষ্যতে গ্রামগঞ্জের কৃষক, পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌছে দিতে পারবেন।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here