SHARE
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পরের মঙ্গলের জন্য সামাজিক ব্যবসা

সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সামাজিক ব্যবসা হচ্ছে পরের মঙ্গলের জন্য ব্যবসা। দেশের, সমাজের ও মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই এ ব্যবসা করা। এ ব্যবসা কাউকে ব্যক্তিগত কোনো মুনাফা দেয় না। মুনাফাটা ব্যবসার মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। ওই মুনাফার টাকা দিয়ে ব্যবসার আরও প্রসার ঘটানো হয়।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবকে ঘিরে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘সামাজিক ব্যবসা প্রেক্ষাপট: বিশ্ব ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। গতকাল শনিবার সকালে কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আগে কলেজিয়েট স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন তিনি। ড. ইউনূস এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েটসের সভাপতি ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ১৮০ বছর পূর্তি উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং সদস্যসচিব মোস্তাক হোসাইন।
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, সামাজিক ব্যবসার উপকারিতা এবং এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়ে ঢাকায় একটি নার্সিং কলেজ ও অটো মেকানিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি। প্রতিষ্ঠানই ব্যয় নির্বাহ করেছে। তবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সে অর্থ মাসিক কিস্তি আকারে শোধ করবেন।
আরেকটি নার্সিং কলেজ স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছ থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকায় একটি জায়গা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. ইউনূস। সেখানে নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়ে সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এ সমস্ত জায়গায় আমাদের মুশকিল হয়ে যায়, বলাও মুশকিল এসব কথা। সরকারের অনুমোদন পেতে আমাদের বড় কষ্ট হয়। ওখানে কেউ গ্রামীণ নাম দেখলে আর ওটাতে হাত দিতে চায় না যে কোন বিপদে পড়ি আবার। অনুমতির জন্য আমরা আটকে থাকি। কাউকে অভিযোগও করতে পারি না। কত দিন লাগে এ অনুমতি দিতে? সেটি এখন ভবিষ্যতের ব্যাপার। যদি অনুমোদন দেয়, তাহলে আমরা চট করে ফেলতে পারব। আমাদের করার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি কমপ্লিট (শেষ)।’
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালের কথাও অনুষ্ঠানে শোনান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক। গ্রামীণ ব্যাংক-সংক্রান্ত আইন করতে গিয়ে শুরু হওয়া সমস্যার চক্কর থেকে এখনো বের হতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আইন করতে যখন গেলাম, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলো, এভাবে তো পারবেন না। সরকারকে কিছু শেয়ার দিতে হবে। এই যে বিপদে পড়েছি, এ বিপদ থেকে এখনো মুক্ত হইনি। এ চক্কর এখনো চলছে।’
ওই সময়ের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি বললাম যে, ঠিক আছে ৫ শতাংশ দিই, ১০ শতাংশ দিই। তারা যখন আইন বানাল, সে আইনে তারা করে দিল ৭৫ ভাগ মালিকানা সরকারের, ২৫ ভাগ মালিকানা সদস্যদের। আমি বললাম, এটা তো হবে না। চাচ্ছিলাম, পুরোপুরি গরিবের মালিকানায় হবে। এখানে সরকারের কিছু থাকবে না। বহু দর-কষাকষির পরে এ আইন সংশোধন করা হলো। সংশোধন করে পাল্টানো হলো। ৭৫ ভাগ সদস্যদের, ২৫ ভাগ সরকারের।’
তবে আইন সংশোধন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘এমনভাবে আইন হলো সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে বোর্ড। সদস্যদের প্রতিনিধি ও সরকারের প্রতিনিধি বোর্ডে থাকবে। সেভাবেই চলল। সদস্যদের মালিকানা। এর ওপরে সরকারের আর কোনো কথা চলবে না। শুধু বোর্ডের কথায় চলবে। হঠাৎ করে সরকারের শখ হলো যে এটা ওভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এটা সরকারের আয়ত্তে আনতে হবে। তারপরই সমস্যা শুরু হয়ে গেল।’

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here