SHARE
ক্যান্সার প্রতিরোধ- বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নতুন আলো
ক্যান্সার প্রতিরোধ- বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নতুন আলো

সলিড টিউমার ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. রথীন্দ্রনাথ বোস। বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানীর প্লাটিনামভিত্তিক পরবর্তী প্রজন্মের ওষুধটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার আওতায় আছে। ইতিমধ্যে ফসপ্লাটিন থেরাপিউটিকস ((Phosplatin Therapeutics) নামের ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও (Ohio) বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ড. রথীন্দ্রনাথ বোসের এ ওষুধ সম্পর্কিত গবেষণা প্রকাশিত হয়। পরে ২০১১ সালে দেশটির হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে ড. রথীন্দ্রনাথ হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ভাইস চ্যান্সেলর ফর রিসার্চের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির রসায়ন, বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। ২০১৩ সালে তিনি ন্যাশনাল একাডেমি অব ইনভেন্টর্সের ফেলো নির্বাচিত হন। ক্যান্সার থেরাপিউটিকস ও ফুয়েল-সেল ইলেকট্রোক্যাটালিস্টের ওপর চারটি অপেক্ষমাণসহ মোট ১০টি পেটেন্টের অধিকারী তিনি।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার সেন্টারে (কেন্দ্র) একযোগে ওষুধটির প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ওই তিনটি কেন্দ্র হলো টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টার, কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার সেন্টার এবং স্যারাহ ক্যানন ক্যান্সার সেন্টার। কেন্দ্রগুলোতে ক্যান্সার রোগীদের ওপর ওষুধের নিরাপত্তা ও প্রতিকূল প্রভাব, সহনীয়তা পরীক্ষা এবং রোগীদের জন্য সর্বোত্তম ডোজের মাত্রা নিরূপণ করা হচ্ছে। ঠিকঠাক মতো চললে পরবর্তী পর্যায়গুলোতে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সারের জন্য ড্রাগের কার্যকারিতার মাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলে জন্মগ্রহণকারী ড. রথীন্দ্রনাথ বোস উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত স্থানীয় স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৭২ সালে স্নাতক ও পরের বছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩-৭৪ মেয়াদকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরের অধিক সময় শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৮২ সালে রসায়ন বিষয়ে তিনি ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। তবে তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশে বসবাস করছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্নাতক শ্রেণির শিক্ষাকালে সাবসিডিয়ারি বিষয় হিসেবে তখন দুই বছর পদার্থবিজ্ঞান পড়তে হতো। সে হিসেবে রথীন্দ্রনাথ আমার ছাত্র। পরবর্তী সময়ে আত্মীয়তা এবং জ্ঞানচর্চার জায়গা থেকে এখনো তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়।’ পদার্থবিজ্ঞানে দেশের প্রথম এ প্রফেসর ইমেরিটাসের ছাত্রের ওষুধ আবিষ্কার সম্পর্কে বলেন, ‘বাজারে প্রচলিত প্লাটিনাম ওষুধগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রে প্রতিক্রিয়াসহ নানা ক্ষতিসাধন করে থাকে। ড. বোসের মূল লক্ষ্য ছিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ন্যূনতম রেখে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এক ধরনের কার্যকরী প্লাটিনাম-যৌগিক ওষুধ অনুসন্ধান করা।’

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here