SHARE
সাদিক খান
সাদিক খান

একজন মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে তিনি অনেক বিতর্কিত আইনি লড়াই করেছেন। লেবার পার্টির এমপি হিসেবে সাদিক খান গেল নির্বাচনে এড মিলিব্যান্ডের ক্যাম্পেইন লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পাকিস্তানি একজন বাস ড্রাইভারের আট সন্তানের একজন সাদিক খানের জন্ম ১৯৭০ সালে দক্ষিণ লন্ডনে। ভাইবোনদের মাঝে পঞ্চম সাদিক সাউথ লন্ডনের টুটিং এলাকায় বেড়ে উঠেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তার দাদা-দাদী ভারত থেকে পাকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাদিক খানের জন্মের কিছুদিন আগে তার বাবা-মা যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। তার বাবা প্রয়াত আমানুল্লাহ খান ২৫ বছর বাসচালক হিসেবে কাজ করেছেন। মা শেহরান ছিলেন একজন দর্জি।

খেলাধুলায় বিশেষ আগ্রহী সাদিক খান তরুণ বয়সে বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বক্সিং শেখেন। একজন তরুণ হিসেবে সারি ক্রিকেট ক্লাবে ক্রিকেটও খেলেন তিনি

১৫ বছর বয়সে সাদিক খান লেবার পার্টির সদস্য হন। তিনি হতে চেয়েছিলেন একজন দন্তচিকিৎসক। কিন্তু স্কুলে সবসময় বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক করতেন বলে তার প্রধান শিক্ষক তাকে আইন বিষয়ে পড়ার পরামর্শ দেন।

ইউনিভার্সিটি অব নর্থ লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন সাদিক। টুটিংয়ে স্থানীয় কাউন্সিলে তিনি ১২ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে এই এলাকা থেকে লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হন সাদিক খান।

২০০৮ সালে সাদিক খান প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় মিনিস্টার অব স্টেট ফর কমিউনিটিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

দুই সন্তানের জনক সাদিক খানের স্ত্রী সাদিয়াও একজন আইনজীবী।

লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে সাদিক খান শুধু রেকর্ডই সৃষ্টি করেননি। এরআগে এককভাবে ব্রিটেনে কোনো রাজনৈতিক নেতা এতো ভোট পাননি, মেয়র নির্বাচনে তো নয়ই।

মেয়র নির্বাচনে সাদিক খান পেয়েছেন ১৩ লাখ ১০ হাজার ১৪৩ ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাক গোল্ডস্মিথ পেয়েছেন ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ ভোট।

সাদিক ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ আর গোল্ডস্মিথের প্রাপ্ত ভোট ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ।

সাদিক খান নির্বাচিত হওয়ায় লন্ডনের এশীয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভীষণ আনন্দিত। অনেকেই তাকে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও কল্পনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here