আবাহনীকে জেতালেন দুই বোলার

    909
    0
    SHARE
    আবাহনীকে জেতালেন দুই বোলার
    আবাহনীকে জেতালেন দুই বোলার

    শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে দাঁড়িয়েই দুই ব্যাটসম্যান মুগ্ধ করলেন স্কুপ, ড্রাইভ, পুলের মতো সব শট খেলে। ১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ নিয়ে এলেন হাতের মুঠোয়। দলকে উপহার দিলেন ২ উইকেটের দুর্দান্ত জয়। দুই ব্যাটসম্যানের একজন জুবায়ের হোসেন, আরেকজন সাকলাইন সজীব। কাল আবাহনী-ব্রাদার্সের সৌজন্যে আরও একটি রোমাঞ্চকর, উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ দেখল বিকেএসপি।
    ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে জুবায়ের যখন নামলেন, আবাহনীর দরকার ১৭ বলে ২৮ রান। নুর আলমের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারলেন না তিনি। এর পর চোখজুড়ানো এক স্কুপ শটে চার! এই বাউন্ডারিটাই যেন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল আবাহনীর লেগ স্পিনারের।
    শেষ ২ ওভারে আবাহনীর প্রয়োজন ছিল ২০ রান। জুবায়েরকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সাকলাইন সজীব। মোহাম্মদ শহীদের চতুর্থ বলে দারুণ এক ছক্কা মেরে সমীকরণ আরেকটু সহজ করে ফেললেন জুবায়ের। শহীদের ওভারে আবাহনী তুলতে পারল ১২ রান।
    শেষ ওভারে হিসাবটা নেমে এল ৮ রানে। আসিফ হাসানের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে প্রান্ত বদল করে সাকলাইনকে দিলেন জুবায়ের। পরের দুটি বলে রান না হওয়ায় ম্যাচ তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। আসিফের চতুর্থ বল ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতেই আনন্দজোয়ারে আবাহনীর খেলোয়াড়েরা ঢুকে পড়লেন মাঠে! আগাম উদ্যাপন শুরু করে দিলেন জুবায়ের-সাকলাইনও।
    অধিনায়ক তামিম ইকবাল সতর্ক করলেন, তর্জনী উঁচিয়ে ব্যাটসম্যানদের জানালেন, দরকার আরও ১ রান। পরের বলে বাউন্ডারি মেরে সাকলাইন জয় নিশ্চিত করলেন আবাহনীর। খণ্ড খণ্ড সব লড়াই ছাপিয়ে ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক হয়ে গেল সাকলাইন-জুবায়েরের অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেট জুটিতে তোলা ১৬ বলে ৩১ রান।
    বোলারদের ব্যর্থতা দেখে তুষার ইমরান ড্রেসিংরুমে ফিরলেন গজরাতে গজরাতে। তবে ৩২.৩ ওভারের ঘটনাটির জন্য বেশি আলোচিত হয়ে থাকবেন ব্রাদার্স অধিনায়ক। আবাহনীর উদয় কৌলের বিপক্ষে কট অ্যান্ড বোল্ডের আবেদন করেছিলেন তুষার। আম্পায়ার নাদির শাহর কাছে আউট মনে হয়নি সেটি।
    এ নিয়ে মাঠে উত্তেজনা ছড়াল বেশ। কৌলের সঙ্গে প্রায় লেগেই যাচ্ছিল তুষারের। ম্যাচ শেষে তুষার দাবি করলেন, ‘ও অবশ্যই আউট ছিল। আম্পায়ার হয়তো ঠিকমতো দেখতে পাননি।’
    কিছু পরেই অবশ্য কৌল আউট হয়েছেন। তবে তার আগে পরিস্থিতির দাবি মেনে খেলেছেন ৫৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ১৯ ওভারে ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা আবাহনীকে ম্যাচে ফিরিয়েছে মূলত কৌল-মোসাদ্দেক হোসেনের পঞ্চম এবং মোসাদ্দেক-আবুল হাসানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। প্রথমটি তুলেছে ৫৭, পরেরটি ৫২ রান।
    ব্রাদার্সের আক্ষেপ হতে পারে, দারুণ সূচনার পরও বিকেএসপির ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অন্তত ২৫০ না করতে পেরে। এখানেও আসবে জুবায়েরের নাম। দ্রুত ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ব্রাদার্সকে চাপে ফেলেছেন তো মূলত তিনিই।
    যদিও কিছু বাজে বলে পিটুনি খাওয়ায় উইকেট পাওয়ার আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি। তবে প্রাণভরে উপভোগ করেছেন ব্যাটিং। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়ে জুবায়েরের মুখে তৃপ্তির ছোঁয়া, ‘প্রথম চারটা মারার পরই মনে হয়েছিল, জেতা সম্ভব। আর ভাগ্যও সঙ্গে ছিল।’

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here